রাজবাড়ীতে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে যুবলীগ নেতা খুন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে শরিফুল ইসলাম ওরফে হিরা (৪০) নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোয়ালন্দ বাজারের তোড়াইয়ের মোড়সংলগ্ন রেললাইনের পাশে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত শরিফুল ইসলাম গোয়ালন্দ পৌরসভার কাজীপাড়া এলাকার মৃত জাবেদ শেখের ছেলে এবং তিনি গোয়ালন্দ পৌর যুবলীগের উপপ্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। গোয়ালন্দ পৌর যুবলীগের সভাপতি শেখ সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত শরিফুলকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। শরিফুলের স্ত্রী শামসুন্নাহার মুক্তা জানান, চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তিনি স্বামীকে বুকে চাকু বিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। সে সময় শরিফুল ব্যথায় কাতর হয়ে চাকুটি বের করে দেওয়ার জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় চাকুটি বের করে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে কামরুল ফকিরের (৩৫) কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন শরিফুল। কিস্তিতে কিছু টাকা পরিশোধ করা হলেও বাকি টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শরিফুলের চাচা ও স্থানীয় শিক্ষক রবিন নুরতাজ জানান, সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কামরুল শরিফুলের পথ রোধ করেন। টাকা পরিশোধের চাপ দিলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির এক পর্যায়ে কামরুল তাঁর কাছে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে শরিফুলের বুকে আঘাত করে পালিয়ে যান।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের দাবি, তোড়াইয়ের মোড় থেকে কুমড়াকান্দি রেলব্রিজ এলাকা পর্যন্ত মাদকের কারবার চলে এবং শরিফুল ও আটক কামরুল উভয়েই এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদক ব্যবসার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে অভিযোগ তাঁদের।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে এলেও মাদকের সংক্রান্ত কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ ঘটনার পরপরই দুপুর ১২টার দিকে পৌরসভার কুমড়াকান্দি রেলব্রিজ এলাকা থেকে অভিযুক্ত কামরুল ফকিরকে আটক করেছে। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।