চলতি বছরের জুলাই মাসে শূন্য থেকে এক বছর বয়সী শিশুদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে সারা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে বরিশাল বিভাগ। বিভাগটি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জন করে এই সাফল্য দেখিয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন) এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ যৌথভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে বরিশাল বিভাগে জন্ম নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ৮৯৬টি, যার বিপরীতে ৯ হাজার ৮৮৩টি নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। একই সময়ে মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ৬৪টি, যার বিপরীতে ৪ হাজার ৪৮৮টি নিবন্ধন হয়েছে। সামগ্রিক অর্জনের হার ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ নিয়ে বিভাগটি শীর্ষে অবস্থান করছে। এ তালিকায় ৬৫ দশমিক ৮ শতাংশ অর্জন করে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রংপুর বিভাগ।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকা সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। জেলা পর্যায়ে পটুয়াখালী জেলা ১১৩ দশমিক ৯ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে দেশসেরা হয়েছে। সেখানে জন্ম নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৬৯২টির বিপরীতে ২ হাজার ১৯৯টি এবং মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ৭৩০টির বিপরীতে ১ হাজার ৬৭টি নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া খুলনা জেলা ১০৩ দশমিক ৬ শতাংশ অর্জন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
উপজেলা পর্যায়ে দেশসেরা হয়েছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা। জুলাই মাসে সেখানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন মিলিয়ে অর্জনের গড় হার ২১১ দশমিক ৫ শতাংশ। গলাচিপায় জন্ম নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২৮টি, যার বিপরীতে ৬৩৭টি এবং মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ১১৬টির বিপরীতে ৩১৮টি নিবন্ধন হয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে খুলনার দাকোপ উপজেলা, যাদের অর্জনের হার ১৩০ শতাংশ।
এ সাফল্যের বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা ও সহযোগিতায় এই ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, এটি জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকারের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আহসান হাবিব বলেন, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

