কিশোরগঞ্জে অপরাধ দমন, মাদক উদ্ধার, ওয়ারেন্ট তামিল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গত ১১ আগস্ট থেকে পুরো জেলাজুড়ে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৫ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, ৮ জন নিয়মিত মামলার আসামি এবং ৬ জন অন্যান্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। থানাভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ সদর থানায় ৪ জন (৩ জন ওয়ারেন্টভুক্ত ও ১ জন অন্যান্য), করিমগঞ্জ থানায় ৩ জন (সবাই ওয়ারেন্টভুক্ত), তাড়াইল থানায় ৩ জন (সবাই নিয়মিত মামলার আসামি), হোসেনপুর থানায় ৩ জন (সবাই ওয়ারেন্টভুক্ত) এবং পাকুন্দিয়া থানায় নিয়মিত মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া কটিয়াদী থানায় ৩ জন (১ জন নিয়মিত ও ২ জন অন্যান্য মামলার), বাজিতপুর থানায় অন্যান্য মামলায় ১ জন, কুলিয়ারচর থানায় ৩ জন (সবাই ওয়ারেন্টভুক্ত), ভৈরব থানায় ৩ জন (২ জন নিয়মিত ও ১ জন অন্যান্য মামলার) এবং নিকলী থানায় ৩ জনকে (২ জন ওয়ারেন্টভুক্ত ও ১ জন নিয়মিত মামলার) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি মিঠামইন থানায় ওয়ারেন্টভুক্ত ১ জন এবং ইটনা থানায় অন্যান্য মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অষ্টগ্রাম থানায় অবশ্য গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তারের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ দমনে এই বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং কিশোরগঞ্জকে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

