৫ই আগস্ট, দেশের ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন। ২০২৪ সালের ‘৩৬শে জুলাই’ ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছিল। আজ সেই ঐতিহাসিক দিনটির দ্বিতীয় বার্ষিকী। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক বাঁক বদল হয়েছিল, তা স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য বিলোপ এবং রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাজপথে নামা মানুষের বিজয়ের এই দিনটি এবার জাতীয় দিবস হিসেবে সরকারি ছুটির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে।
অভ্যুত্থানের দুই বছর পর আজ মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব সামনে এসেছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নানা টানাপড়েন ও সংস্কারের রূপরেখা তৈরির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর নির্বাচন আয়োজন করে। নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সংসদে প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এবং বড় অংশীদার হিসেবে আছে তরুণদের গড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে নতুন সরকার গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যসহ নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট নিয়ে সরকারের সঙ্গে অভ্যুত্থানের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের টানাপড়েনও জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
২৪-এর আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক ধারায় বড় পরিবর্তন এনেছে। তরুণদের এনসিপি’র মতো দল সংসদীয় রাজনীতিতে জায়গা করে নিয়েছে, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে মাঠছাড়া। দলটির শীর্ষ নেতারা পলাতক বা কারাবন্দি এবং তাদের কার্যক্রম সরকারিভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গণহত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে পালিয়ে আছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতারা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বৈরাচার থেকে মুক্তি পেলেও বাংলাদেশ এখন নতুন রাজনৈতিক জটিলতা ও অর্থনৈতিক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা থেকে উত্তরণই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আজ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ পালিত হচ্ছে। সরকারি কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ১২টায় শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এবং সভাপতিত্ব করবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। এছাড়া সকাল ৬টা ১ মিনিটে শাহবাগস্থ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।
দিনটি উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, সরকারি হাসপাতাল ও কারাগারে প্রীতিভোজ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হবে। এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর, জাতীয় জাদুঘর, সামরিক জাদুঘর ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র শিশুদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আজ সকালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করবেন। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শহীদদের কবর জিয়ারত, স্মৃতি ফলকে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভাসহ বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

