টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী নৌযান ও হাউসবোট চলাচল নিষিদ্ধ

টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, প্রতিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হাওরের ইসিএ (Ecologically Critical Area) ঘোষিত এলাকার অভ্যন্তরে সব ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

জেলা প্রশাসনের জারি করা নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, সব হাউসবোটের মালিক, পরিচালনাকারী, ট্যুর অপারেটর এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ইসিএ এলাকার ভেতর নৌযান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। এছাড়া পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ৪। হাউসবোট/ নৌযানে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। প্রতিটি হাউসবোট/ নৌযানে নিরাপদ পানীয় জলের জন্য পানি বিশুদ্ধকারী ফিল্টার রাখতে হবে। ৫। সব হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ (একশত) ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। ৬। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বরসমূহ (জেলা/উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল ইত্যাদি) পর্যটকদের অবহিত করতে হবে এবং দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ৭। প্রতিটি হাউসবোট/ নৌযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্র সংরক্ষণ করতে হবে এবং গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ৮। পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিটি হাউসবোট/ নৌযানে বাধ্যতামূলকভাবে সেপটিক ট্যাংক স্থাপন করতে হবে। এছাড়া, অন্যান্য বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য কমপক্ষে ০২ (দুই)টি ডাস্টবিন রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের বর্জ্য হাওর বা জলাশয়ে ফেলা যাবে না। ৯। হাউসবোট/ নৌযানের মালিক ও ট্যুর অপারেটর প্রতিটি ট্যুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এছাড়া আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে সব হাউসবোট ও ট্যুর অপারেটরকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে না এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।