ভেড়ামারার সাবেক মেয়র আনোয়ারুল কবিরের ওপর হামলা, মাথায় ১১ সেলাই

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাবেক নেতা আনোয়ারুল কবির সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভেড়ামারা শহরের গোডাউন মোড় এলাকার একটি চায়ের দোকানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং সেখানে ১১টি সেলাই দিতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মেয়রের पद হারান আনোয়ারুল কবির। তিনি ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের সদস্য ছাড়াও যুব জোটের সহসভাপতি এবং কেন্দ্রীয় যুব জোটের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তবে গত ২৯ জুন নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে দলের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম ও দলীয় পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। দল ছাড়ার কয়েক সপ্তাহের মাথায় তাঁর ওপর এই হামলা হলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে গোডাউন মোড়ের একটি চায়ের দোকানে বসে কথা বলছিলেন আনোয়ারুল কবির। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে এসে একদল দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দেয়। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে দুলাল ও নুরু নামের আরও দুই ব্যক্তি আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই আনোয়ারুলকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

আনোয়ারুল কবিরের দাবি, ভেড়ামারা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এস এস আল হোসাইন সোহাগের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। নওদাপাড়া এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সোহাগ এবং চাঁদগ্রাম এলাকার সিজারসহ কয়েকজন তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই আক্রমণ করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাসদ করে রাস্তায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো যাবে না বলে গত বৃহস্পতিবার রাতেও সোহাগ তাঁকে হুমকি দিয়েছিলেন। হামলার সময় গুলিও ছোড়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এই ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সাবেক এই মেয়র।

তবে তাঁর ওপর আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এস এস আল হোসাইন সোহাগ। তিনি বলেন, ‘সম্পর্কে আমরা মামা-ভাগনে। তাঁর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। তিনি যে অভিযোগ এনেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে কেন এমন কাজ করতে যাব? কেন তিনি এমন অভিযোগ করছেন, তা আমার বোধগম্য নয়।’ সোহাগের দাবি, তিনি আগামী পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে সামাজিক কাজ করছেন। তাঁর এই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আনোয়ারুল কবির এমন অভিযোগ করছেন।

এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও সেখানে গুলির কোনো আলামত পায়নি বলে জানিয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি। ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, তাঁরা জানতে পেরেছেন আনোয়ারুল কবিরের ওপর পেছন থেকে আক্রমণ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।