পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় পুলিশ ও র্যাবের বিশেষ যৌথ অভিযানে চার দিনে মোট আটজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মামুন হোসাইন ওরফে বাবলু জোমাদ্দারও রয়েছেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া পুলিশের এই বিশেষ অভিযান আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে বলে জানা গেছে। মূলত মাদক, অস্ত্র, সাজাপ্রাপ্ত ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে এই যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া বাবলু জোমাদ্দার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছাড়াও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য এবং কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্থানীয় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গোপন সংবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে কাউখালী থানা পুলিশ ও র্যাবের একটি যৌথ দল তাকে গ্রেপ্তার করে। কাউখালী থানার এএসআই মহিউদ্দিন ও এসআই খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। বাবলু জোমাদ্দার একটি চেক জালিয়াতি মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এবং ২০২৪ সালে কাউখালী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলার ৮ নম্বর পলাতক আসামি ছিলেন।
চলমান এই বিশেষ অভিযানের প্রথম চার দিনে গ্রেপ্তার হওয়া মোট আটজনের মধ্যে তিনজন সাজাপ্রাপ্ত এবং তিনজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। এছাড়া বাকি দুজনকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পিরোজপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ অভিযান আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, কাউখালী উপজেলাকে মাদক, অস্ত্র ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে পুলিশের এই ধরনের আইনগত পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।

