ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গাবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। পরবর্তীতে বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাত দেশের আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এই প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশ থেকে কোনো প্রতিনিধি না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামী শনি ও রোববার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে এই সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হবে কি না, তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছিল।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত তাঁকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়।
এর মধ্যেই গত ৫ আগস্ট জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সরাসরি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন বাড়ে। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা চললেও দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কয়েক দিন আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

