চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আবাসিক হলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা ডিপ ফ্রিজ সংকট দূর করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিজের আপ্যায়ন ও যাতায়াত খাতের জন্য বরাদ্দকৃত সম্পূর্ণ অর্থ দিয়ে ১১টি ডিপ ফ্রিজ কেনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ‘ডেইলি বাংলাদেশ’ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি ছাত্র হল, একটি হোস্টেল এবং সূর্যসেন হলের ছাত্রী ব্লকসহ মোট ১১টি আবাসিক ইউনিটে দীর্ঘদিন ধরে ডিপ ফ্রিজের তীব্র সংকট রয়েছে। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে খাবার নিয়ে আসা আবাসিক শিক্ষার্থীরা তা সংরক্ষণ করতে পারছিলেন না। ফ্রিজ না থাকায় প্রায়ই খাবার নষ্ট হয়ে যেত, যা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
শিক্ষার্থীদের এই দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে নিজের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি তহবিল ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভিপি। তিনি জানান, আপ্যায়ন, চা-নাস্তা, যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খাতের জন্য বরাদ্দকৃত ৪ লাখ টাকা থেকে তিনি ব্যক্তিগত কোনো কাজে এক টাকাও খরচ করেননি। পুরো অর্থই অব্যবহৃত অবস্থায় জমা ছিল। এবার সেই টাকা দিয়েই শিক্ষার্থীদের জন্য ১১টি ডিপ ফ্রিজ কেনা হবে।
নিজের ফেসবুক পোস্টে ইব্রাহিম হোসেন রনি লিখেছেন, “আপ্যায়ন, চা-নাস্তা, যাতায়াতসহ আনুষঙ্গিক খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো টাকা ব্যয় করিনি। পুরো অর্থই জমা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের একটি প্রয়োজন পূরণে এ অর্থ ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আল্লাহ ভরসা।”
এর আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ডিপ ফ্রিজের তীব্র সংকট নিয়ে ‘ডেইলি বাংলাদেশ’-এ একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পরেই শিক্ষার্থীদের এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত এগিয়ে আসেন চাকসু ভিপি। তার এই সময়োপযোগী ও কল্যাণমুখী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা মনে করছেন, এই ১১টি ফ্রিজ স্থাপন করা হলে হলগুলোতে খাবার সংরক্ষণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও অপচয় অনেকটাই দূর হবে।

