বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগে ডিসিদের ক্ষমতা বাতিল, ফিরল আগের নিয়ম

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অশিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) দেওয়া সুপারিশের ক্ষমতা বাতিল ঘোষণা করেছে সরকার। এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আগের নিয়ম পুনর্বহাল করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব ফিরে পেল পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কমিটি। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে নিয়োগে আবারও রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা।

গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সংশোধিত পরিপত্র জারি করে। মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি মাধ্যমিক শাখার যুগ্মসচিব সাইয়েড এ জেড এম মোরশেদ আলী স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে বলা হয়, বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক কলেজ এবং স্নাতক (পাস) কলেজের শিক্ষক ব্যতীত অন্যান্য এমপিওভুক্ত পদে নিয়োগের সুপারিশ কার্যক্রমের নির্দেশনা সংশোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জারি করা আগের পরিপত্রটি বাতিল করা হয়েছে।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ট্রেড অ্যাসিস্ট্যান্ট, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, গবেষণাগার সহকারী, ল্যাব সহকারী, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নৈশপ্রহরী, আয়া এবং অফিস সহায়কের মতো অশিক্ষক এমপিও পদগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের নির্দেশনাটি পুনরায় কার্যকর হবে। অর্থাৎ, এসব পদে নিয়োগের মূল ক্ষমতা এখন থেকে পরিচালনা কমিটির হাতেই থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ ছিল। প্রতিটি নিয়োগের বিপরীতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্যের এই ধারা বন্ধ করতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত বছরের পরিপত্রের মাধ্যমে সুপারিশের দায়িত্ব ডিসিদের দেওয়া হয়েছিল।

যদিও তৎকালীন সময়ে শিক্ষাবিদদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, রাজনৈতিক চাপ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ডিসিদের মাধ্যমেও শতভাগ স্বচ্ছতা আনা কঠিন হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই পরিপত্র বাতিল করে আগের নিয়মে ফিরে গেল সরকার। তবে আগের নিয়ম ফিরে আসায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।