জুলাইয়ের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন শিক্ষার্থী হাসান মাহমুদ শুভ

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে রাজপথে সম্মুখ সারিতে থেকে লড়াই করেছিলেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী হাসান মাহমুদ শুভ। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং প্রভাষক আবদুল হাইয়ের বড় ছেলে শুভ আন্দোলনের শুরু থেকেই মিছিল, স্লোগান ও লেখালেখির মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তবে এই আন্দোলনের স্মৃতি এখন তার কাছে শুধু বিজয়ের গল্প নয়, বরং বয়ে বেড়ানো এক শারীরিক ক্ষত।

আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শুভ জানান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকা তার কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য ছিল না। মানুষের ন্যায্য দাবির বিপরীতে গুলি, নির্যাতন ও দমন-পীড়ন তাকে ঘরে বসে থাকতে দেয়নি। ১৬ জুলাই আবু সাঈদের আত্মত্যাগ তাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি রাজপথের পাশাপাশি বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত গঠনে নিয়মিত লেখালেখি করেছেন। তার মতে, একটি আন্দোলন কেবল স্লোগানে নয়, বরং যুক্তি ও সত্য প্রকাশের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়; কলমও তার কাছে এক ধরনের প্রতিরোধ ছিল।

আন্দোলনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শুভ বলেন, ১৯ জুলাই উত্তরা বিএনএস সেন্টার এলাকায় আন্দোলনের সময় তিনি চরম পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। সেদিন তার চোখের সামনেই অনেককে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়তে দেখেন। ভবনের ওপর থেকে চালানো গুলিতে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বেঁচে ফেরা অসম্ভব মনে হয়েছিল। সৃষ্টিকর্তার বিশেষ কৃপায় সেদিন তিনি বেঁচে যান।

শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঘটনাটি ঘটে ২৭ জুলাই। এদিন বিকালে ঢাকা কলেজের সামনে থেকে পুলিশ তাকে আন্দোলনকারী সন্দেহে আটক করে। শুভ জানান, আন্দোলনকারী হিসেবে শনাক্ত করার পর পুলিশ তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং একপর্যায়ে বন্দুকের বাঁট দিয়ে তার হাঁটুতে প্রচণ্ড আঘাত করে জখম করে। সেই আঘাতের চিহ্ন ও ব্যথা এখনো তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন। বর্তমান প্রজন্মের প্রতি তার বার্তা, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র বিনামূল্যে আসে না; তাই যারা জীবন দিয়েছেন ও আহত হয়েছেন, তাদের ত্যাগ যেন কখনো বিস্মৃত না হয়।