লুটপাট, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ে আতঙ্ক, নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাভারে ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ‘রিয়াদ বাহিনী’। লুটপাট, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও হামলার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চিহ্নিত অপরাধী হিসেবে এলাকায় পরিচিত রিয়াদের নেতৃত্বে একটি কিশোরগ্যাং দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সম্প্রতি সাভারের বিভিন্ন এলাকায় কথিত ‘রিয়াদ বাহিনী’র সদস্যদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের আনাগোনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কে চলাচল করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়, ছিনতাই, মারধর ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারের মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে বাহিনীটির সদস্যরা।
এরই মধ্যে রিয়াদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হামলা ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগের তথ্য সামনে এসেছে। সাভার মডেল থানার অফিসার-ইনচার্জ বরাবর দেওয়া ওই অভিযোগে বাদী হিসেবে জনি (৩১) নামের এক ব্যক্তি কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সাভার থানাধীন বাজার রোড এলাকার একটি শপিং কমপ্লেক্সের সামনে বিবাদীদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে সাভার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বাদী ও তার বন্ধুদের ওপর হামলার অভিযোগ করা হয়।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে হামলা চালিয়ে বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। তাকে ঠেকাতে এগিয়ে গেলে তার বন্ধুদের ওপরও হামলা করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতরা সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক মাথার আঘাতে সেলাই দেওয়ার কথাও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা স্থানীয় লোকজনের কাছে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ করতে বিলম্ব হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগপত্রে রিয়াদসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হলেও, অভিযোগের প্রতিটি তথ্যের সত্যতা এবং বর্তমানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা, গ্রেপ্তার বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো এসব অভিযোগের পরও সাভারে রিয়াদ ও তার সহযোগীদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় লুটপাট, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই বলছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক প্রভাব ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালালে তাদের পরিচয় নয়, অপরাধের ধরন ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাভারবাসীর প্রশ্ন এখন একটাই, পুরোনো অভিযোগ ও সাম্প্রতিক অপরাধের অভিযোগের পর রিয়াদ বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ নেবে কবে?

