সংযোগ সড়ক না থাকায় দেড় বছরেও অচল উজিরপুরের ৬ কোটি টাকার সেতু

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ৩৬

বরিশালের উজিরপুরে প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে দেড় বছরেও কোনো কাজে আসছে না। সেতুর মূল নির্মাণকাজ শেষ হলেও দুই পাশে পূর্ণাঙ্গ সংযোগ সড়ক না থাকায় এখনো যান চলাচলের জন্য এটি খুলে দেওয়া হয়নি। স্থানীয় জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে আছে প্রকল্পের নির্মাণকাজ, ফলে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোটি জনগণের কোনো উপকারে আসছে না।

উপজেলার ধামুরা-শোলক-বাটাজোর সড়কে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৪৪ দশমিক শূন্য ৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্যানুযায়ী, সেতুটির চুক্তিমূল্য ৬ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা এবং কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়কের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সেতুটি এখনো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়ের ভাষ্যমতে, সেতুর দুই পাশে ঢাল নামানোর জন্য প্রায় ৩৪ ফুট সরকারি খাসজমি রয়েছে। তবে ওই জমি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হওয়ায় অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ থমকে আছে। তিনি দাবি করেন, প্রকল্প গ্রহণের আগে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি ও স্থানীয় ভূমি অফিসের মাধ্যমে জমির মালিকানা যাচাই-বাছাই করেই নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সেতুর দুই পাশে জমির মালিকানা দাবি করা আব্দুর রব হাওলাদার জানান, তিনি এসএ খতিয়ানের মালিক এবং নির্মাণকাজ শুরুর সময় তিনি তার জমির ওপর দিয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা তখন জমি অধিগ্রহণের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ ছাড়াই জমি ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তার দাবির সপক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নথি বা প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি।

স্থানীয় সমাজসেবক মোহাম্মদ এনায়েত শরীফ জানান, এটি উপজেলা পরিষদের নিবন্ধিত সড়ক এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করেই নকশা করা হয়েছে। অন্যদিকে, উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মণ্ডল জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বর্তমান বিএস জরিপে রাস্তার নামে রেকর্ড ও নকশা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘবে সেতুটি চালু হলে ধামুরা ও শোলক এলাকার মানুষের যোগাযোগ, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং জরুরি রোগীদের যাতায়াত সহজ হওয়ার কথা ছিল।