কোনো সিন্ডিকেটের অংশ ছিলাম না, নিজের অবস্থানেই অটল বিদ্যা সিনহা মিম

চরকির ওয়েব ফিল্ম ‘লাইফলাইন’-এ প্রধান চরিত্র ‘অনন্যা’ হিসেবে বিদ্যা সিনহা মিমের অভিনয় দর্শক মহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এই চরিত্রের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। মিম জানান, অনন্যা চরিত্রটি এমন এক মেয়ে, যে আগে কখনো গ্রামে বা দুর্গম স্থানে যায়নি। বিপদে পড়া বা ঝামেলার সম্মুখীন হওয়ার সময় একজন মেয়ের মানসিক অবস্থা কেমন হয়, তা ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। দুর্গম রাস্তায় বাইকে চড়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, শুটিং স্পটে কষ্টের অভিজ্ঞতাগুলো তাঁর অভিনয়ে স্বাভাবিকতা এনে দিয়েছে। প্রথম দিকে বাইকে চড়তে ভয় পেলেও পরে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন তিনি।

ঈদের সিনেমা ‘মালিক’ দিয়ে চার বছর পর প্রেক্ষাগৃহে ফিরলেও নির্মাণ নিয়ে কিছু সমালোচনা হয়েছে। কাজ প্রত্যাশামতো না হলে খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক বলে মনে করেন মিম। তিনি বলেন, সব কাজ মনমতো হয় না, তবে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী কাজে মনোযোগী হওয়াটাই তাঁর লক্ষ্য। এখন কাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি অনেক বেশি সচেতন। অনেক সময় পরিচালকের পরিকল্পনার তুলনায় বাস্তব আউটপুট কম পাওয়া যায়, এমনকি শতভাগের ১০ ভাগও অনেক সময় বাস্তবায়িত হয় না, যেখানে শিল্পী হিসেবে তাঁর কিছু করার থাকে না।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ইন্ডাস্ট্রির রূপান্তর নিয়ে মিম বলেন, ওটিটি ও সিনেমার বাজেট বাড়লেও বর্তমানে সিনেমার সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। হাতে গোনা কয়েকটি বড় সিনেমা নির্মিত হয় বলে অনেক শিল্পী কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই সুযোগের অভাব থেকে ইন্ডাস্ট্রিতে এক ধরণের ‘কমফোর্ট জোন’ বা তথাকথিত সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। মিম স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কখনোই কোনো সিন্ডিকেটের অংশ ছিলেন না এবং এখনো নেই। নিজের কাজের মাধ্যমেই তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন।

টেলিভিশন নাটকের সোনালী সময়ের স্মৃতিচারণ করে মিম বলেন, তখনকার কাজের পরিবেশ ও দর্শকের আগ্রহ ছিল অন্যরকম। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে তারকাখ্যাতি যেমন দ্রুত আসে, তেমনি দ্রুত হারিয়েও যায়। নাটকে ফেরার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানের নাটকের মান ও আয়োজনে আগের মতো সন্তুষ্টি পাওয়া যায় না। তবে ভালো বাজেট ও বড় পরিসরের কাজ পেলে ভবিষ্যতে নাটকে অভিনয়ের কথা ভেবে দেখতে পারেন।

ব্যক্তিগত জীবনে মিম পরিবার ও কাজকে সমান গুরুত্ব দেন। শুটিং বা রিহার্সালের বাইরে তিনি বেশিরভাগ সময় পরিবারের সঙ্গেই কাটান। ঘোরাঘুরির বিষয়ে তিনি বলেন, কাজের সুবাদেই তাঁকে বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়, তবে তা উপভোগ করার চেষ্টা করেন। বর্তমানে নতুন কিছু ভিন্নধর্মী কাজের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।