স্কুল জীবনের মঞ্চে ঐতিহাসিক নাটক 'স্পেন বিজয়ী মুসা'-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের নজর কেড়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই সময় ঠাকুরগাঁও হাইস্কুলের এই নাটকটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ৪-এর তথ্যমতে, মঞ্চের সেই অভিনেতা আজ জীবনের এক বিশাল অধ্যায় পার করে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। তার এই উত্তরণকে বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা এক গর্বের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।
রাষ্ট্রপতির মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার জন্য যে চারিত্রিক মাধুর্য ও কর্মগৌরব প্রয়োজন, মির্জা ফখরুলের মধ্যে তা শৈশব থেকেই পরিলক্ষিত হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত বিনয়ী ও পরোপকারী ছিলেন। তার বাবা মির্জা রুহল আমিন ছিলেন একজন ব্যক্তিত্ববান জনপ্রতিনিধি, যার কাছ থেকে তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করার দীক্ষা পেয়েছিলেন। বন্ধুদের সাথে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর এবং অকৃত্রিম।
ছাত্রজীবনে মির্জা ফখরুলের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শিল্প-সংস্কৃতি ও খেলাধুলা। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন এবং ‘নিক্কন সংগীত বিদ্যালয়’-এর বিভিন্ন আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা রাখতেন। নাটকের প্রতি তার অনুরাগ ছিল গভীর, যা তাকে মঞ্চে দক্ষ করে তুলেছিল। এছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলা ক্রিকেট দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবেও তিনি মাঠে নিজের উজ্জ্বল উপস্থিতি জানান দিয়েছিলেন।
সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থ ব্যক্তিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা কিংবা বন্যাকবলিত মানুষের সেবায় ত্রাণ নিয়ে ছুটে যাওয়া—সবক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন এক সংবেদনশীল ব্যক্তিত্ব। তার এই বিনম্র স্বভাব এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে আপন করে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছিল। কোনো সংকীর্ণতা বা বিভেদ কখনো তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। আজ তিনি যখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হতে চলেছেন, তখন তার দীর্ঘদিনের এই মানবিক জীবন ও কর্মধারা নতুনভাবে জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে বলে বিশ্বাস করেন তার ঘনিষ্ঠরা।

