জবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় উপাচার্যের কাছে তিন সংগঠনের স্মারকলিপি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার এবং ক্যাম্পাসে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার দাবিতে উপাচার্যের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দিয়েছে তিনটি সংগঠন। বৃহস্পতিবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু), বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি উপাচার্যের কার্যালয়ে এসব স্মারকলিপি জমা দেয়।

বেলা দেড়টার দিকে উপাচার্য মো. রইছ উদদীনের কাছে ৯ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি জমা দেয় জকসু। জকসুর বেশির ভাগ সদস্য ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল থেকে নির্বাচিত। স্মারকলিপিতে জকসু অভিযোগ করে, বুধবার শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন ও মেডিক্যাল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে অডিটোরিয়ামে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের সেখান থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে শহীদ ইকরামুল হক সাজিদ ভবনের সামনে অবস্থান নিলে প্রক্টরের পরোক্ষ ইশারায় ছাত্রদল ও বহিরাগতরা দেশি অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। জকসু এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, প্রক্টরের অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে প্রশাসনকে তিন কার্যদিবসের আলটিমেটাম দিয়েছে।

এর পরপরই বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেয়। ছাত্রদল ক্যাম্পাসে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানায়। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে তারা নিজেদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও জকসুর ব্যানারে ছাত্রশিবিরের কতিপয় কর্মী নিয়ম ভেঙে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তারা ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রাখতে সব সংগঠনের জন্য সমান নিয়ম বজায় রাখার দাবি জানায়।

বেলা আড়াইটার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি পাঁচ দফা দাবি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে হামলায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করা, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর অস্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করা, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ বাস্তবায়ন এবং অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা।

এদিকে, বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসের রফিক ভবনের নিচে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শাখা ছাত্রদল। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহদী হাসান হিমেল বলেন, বিগত ১৭ বছরের ছাত্ররাজনীতির অপসংস্কৃতি থেকে ছাত্রদল নিজেদের রক্ষা করতে কাজ করছে। কেউ মববাজির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় দখলের চেষ্টা করলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিরোধ করা হবে। সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, প্রতিবেশী দেশ যদি সত্যিই বাংলাদেশের বন্ধু হয়, তবে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে ফেরত এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে সহায়তা করা উচিত।