নোয়াখালীতে বাড়িতে ঢুকে যুবদল নেতাকে গুলি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় নিজের বাড়িতে ঢুকে যুবদলের এক সাবেক নেতাকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ওই নেতার নাম মো. সোহাগ ওরফে সোহেল (৩৫)। তিনি ওই গ্রামের চৌকিদার বাড়ির মাহফুজ মিয়ার ছেলে এবং গোপালপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০শে জুলাই দীর্ঘ চার বছর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন সোহেল। এর আগে গত বুধবার দুপুরে পাশের আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নের জনকল্যাণ এলাকায় রসুলপুর গ্রামের যুবদল কর্মী সুমনকে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা পথরোধ করে মারধর করেন। সোহেল এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই বিরোধের জের ধরেই রোববার সন্ধ্যায় জামায়াত-শিবিরের নেতা ছেনি আলম, নাছির, জহির ও চশমা জাবেদের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী সোহেলের বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

আহত সোহেলকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে দ্রুত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবীবুর রহমান হাবীব অভিযোগ করে বলেন, গোপালপুর ইউনিয়নে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি না করলে এখন বসবাস করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন গোপালপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাস্টার আবু তাহের। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন।

বেগমগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান জানান, ছররা গুলিতে একজন আহত হয়েছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।