ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে যাওয়া কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত করেছে শাহবাগ থানা-পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত হওয়া কিশোরীর নাম মিম আক্তার (১৫)। মিমের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী, স্ত্রী ও শ্বশুরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মিম তাদের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক (৪৭), মো. ফয়সাল আহমেদ (৩৫) ও রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯)। গত ১২ আগস্ট সিএনজি অটোরিকশায় করে মিমকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়। দুই ব্যক্তি তাকে ট্রলিতে করে জরুরি বিভাগের সামনে রেখে চলে যান। তাদের মধ্যে একজন টিকিট কাটার কথা বলে এবং অন্যজন ভাড়া দেওয়ার কথা বলে সরে পড়েন। এরপর তারা আর ফেরেননি। হাসপাতালকর্মীরা মিমকে চিকিৎসকের কাছে নিলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
শাহবাগ থানা-পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরীর পরিচয় শনাক্তে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত শুরু করা হয়। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ আগস্ট শাহবাগ থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছিল। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অপরাধ আড়াল করতেই আসামিরা মিমের লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড়ের বাসা ছেড়ে স্বপরিবারে অন্যত্র গা ঢাকা দিয়েছিলেন। রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, মিমের কাছে কোনো মোবাইল ফোন বা ডিভাইস পাওয়া যায়নি এবং বয়স কম হওয়ায় আঙুলের ছাপ দিয়েও তাৎক্ষণিক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের একটি দল দীর্ঘ প্রচেষ্টায় তার পরিচয় নিশ্চিত করে। বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে এবং এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

