আয়কর রিটার্ন দাখিলের নিয়ম ও করমুক্ত আয়ের সীমা জানুন

আয়কর রিটার্ন দাখিল নিয়ে করদাতাদের মধ্যে প্রায়ই বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দেয়। অনেকে মনে করেন কোনো খাতে আয় থাকলেই কর দিতে হবে, তবে বিষয়টি আসলে তা নয়। রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা মূলত আয় এবং নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ওপর নির্ভর করে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন নিয়মে চলতি অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন দাখিল শুরু হয়েছে, যা এখন বছরজুড়েই করা সম্ভব। তবে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা নির্ধারিত সুবিধা পেতে পারেন।

একজন করদাতার আয় সাধারণত সাতটি প্রধান খাতে ভাগ করা হয়ে থাকে। এসব খাতের আয় যথাযথ প্রমাণপত্রসহ রিটার্নে উল্লেখ করা প্রয়োজন। খাতগুলো হলো: চাকরি থেকে পাওয়া বেতন, ভাতা ও বোনাস; বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান বা যেকোনো সম্পত্তি ভাড়া থেকে আয়; কৃষিকাজ ও ফসল উৎপাদনজনিত আয়; ব্যবসা, পেশা বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আয়; সম্পদ বা বিনিয়োগ বিক্রয় থেকে অর্জিত মূলধনি লাভ; ব্যাংকের সুদ, লভ্যাংশ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও সিকিউরিটিজ থেকে আয় এবং রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, সম্মানী ও অন্যান্য আয়।

উল্লেখ্য যে, এই সাতটি খাতের যেকোনো একটিতে আয় থাকলেই যে আয়কর দিতে হবে, তা নয়। রিটার্ন দাখিল করা এবং আয়কর পরিশোধ করা ভিন্ন দুটি বিষয়। করযোগ্য আয় না থাকলেও আইনের আওতায় কিছু ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে পারে। যেমন—মোট আয় করমুক্ত সীমার বেশি হলে, আগের তিন বছরে কর নির্ধারণ হয়ে থাকলে, কোনো ফার্মের অংশীদার হলে, কোম্পানির পরিচালক বা কর্মচারী হলে অথবা সরকারি চাকরিজীবী হলে রিটার্ন দেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সাধারণ পুরুষ করদাতার জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতাদের জন্য এ সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতাদের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং যুদ্ধাহত গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে অভিভাবকরা নিয়মিত করমুক্ত সীমার বাইরে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।