পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদিয়ালা কারাগার থেকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চ তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসকদের দিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তবে পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো তাকে হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
কারাগারে থাকা অবস্থায় প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছিলেন ইমরান খানের আইনজীবীরা। তাদের দাবি, কারাগারে যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। যদিও পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ইমরানের চিকিৎসায় একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞও যুক্ত থাকবেন। একই সঙ্গে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তার জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা সরকারের আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
চিকিৎসার পাশাপাশি আদালত ইমরান খানকে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে। কয়েক মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে না পারা ইমরান মঙ্গলবার রাতে তার এক বোনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। আদালতের নির্দেশে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর তার জন্য অন্যতম বড় একটি সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইমরান খান অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনা সব মামলাকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস ও রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রিসহ শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে একটি পৃথক মামলায় ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এদিকে, ইমরান খানের সমর্থকদের হাসপাতালের সামনে জড়ো না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আদালত তার দলকে হাসপাতালের বাইরে কোনো সংবাদ সম্মেলন না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

