ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক আগ্রাসনের ফলে গাজা উপত্যকার প্রায় ৯৭ শতাংশ কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ৩ শতাংশ জমি চাষাবাদের উপযোগী বা কৃষকদের নাগালের মধ্যে অবশিষ্ট রয়েছে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং জাতিসংঘ স্যাটেলাইট সেন্টার (ইউএনএসএটি)-এর যৌথ পরিচালনায় এই মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০২৫ সালের অক্টোবরের তুলনায় বর্তমানে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ এক-চতুর্থাংশের (২৫ শতাংশ) বেশি হ্রাস পেয়েছে।
এফএও মঙ্গলবার 'ইউএন নিউজ'-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তথাকথিত 'ইয়েলো লাইন' বা হলুদ রেখা সম্প্রসারণের কারণে কৃষকরা তাদের নিজেদের জমিতে যাওয়ার অধিকার হারাচ্ছেন। এই রেখার কারণে গাজার প্রায় ৫৫ শতাংশ এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে সরাসরি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
মূল্যায়নে আরও উঠে এসেছে যে, গাজায় গ্রিনহাউস বা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ফসল ফলানোর এলাকার পরিমাণও আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। বিশেষ করে দেইর আল-বালাহ অঞ্চলে এই হ্রাস সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে। এফএও-এর জরুরি পরিস্থিতি সংক্রান্ত কার্যালয়ের পরিচালক রেইন পলসেন বলেন, এই তথ্যগুলো গাজার কৃষি খাতের ক্রমাগত অবনতিকে তুলে ধরছে। জমিতে প্রবেশাধিকার না থাকায় যেসব এলাকার কৃষি সম্পদ এখনো অক্ষত রয়েছে, সেখানেও খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, বীজ, সার, সেচ সরঞ্জাম এবং জ্বালানির মতো কৃষি উপকরণের তীব্র সংকটের পাশাপাশি এগুলোর প্রবেশ ও বিতরণের ওপর বিধিনিষেধ পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলেছে। গাজার পশুপালকরাও পশুখাদ্য ও ভেটেরিনারি সামগ্রীর অভাবে হিমশিম খাচ্ছেন। বাজারে যে সামান্য কিছু কৃষি উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে, তা সাধারণ কৃষক পরিবারের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং নিম্নমানের।
ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনে কৃষিজমি ছাড়াও গ্রিনহাউস, পানির কূপ এবং সেচ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। এর ফলে খাদ্য উৎপাদন নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষক পরিবারগুলোর জীবিকা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। কৃষি উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করতে এফএও জরুরি ভিত্তিতে কৃষকদের জমিতে নিরাপদে যাওয়ার সুযোগ প্রদান, কৃষি সামগ্রীর প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনর্বাসনের আহ্বান জানিয়েছে।

