বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন যুগ যুগ ধরে অটুট থাকবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ এই সম্প্রীতিকেই ধারণ ও লালন করে।
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের নবগঠিত কমিটির সদস্যদের নিয়ে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রিজভী।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, এ দেশের মাটির গভীরে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ মিশে আছে। পারস্পরিক আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে আমরা একটি জাতীয় সত্তা হিসেবে গড়ে উঠেছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই জাতীয় সত্তাকেই ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ হিসেবে একটি দার্শনিক রূপ দিয়েছিলেন। এই দর্শনের আওতায় দেশের প্রতিটি ধর্ম, সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর সমান অধিকার ও মর্যাদা রয়েছে। প্রত্যেকেই অত্যন্ত গর্বের সাথে নিজেকে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই অটুট ভ্রাতৃত্বের বন্ধন নষ্ট করতে বিভিন্ন সময় নানা চক্রান্তকারী ও অশুভ শক্তি তৎপরতা চালায়। তবে সব বাধা পেরিয়ে সম্প্রীতি বজায় রাখতে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা একে অপরের ধর্মীয় উৎসব যেমন পূজা-পার্বণ ও ঈদ-মিলাদুন্নবীতে অংশ নিয়ে আনন্দের অংশীদার হই।
নবগঠিত ট্রাস্টগুলোর বিষয়ে রিজভী বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জন্য তিনটি আলাদা ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এই ট্রাস্টগুলো উপাসনালয় ও দেবালয়গুলোর উন্নয়ন ও সুপরিচালনা নিশ্চিত করবে, যাতে ভক্তরা সুন্দর পরিবেশে প্রার্থনা করতে পারেন। তিনি আরও যোগ করেন, বিএনপিতে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা রয়েছেন, যারা কেবল তাদের নিজ সম্প্রদায়ের নয়, বরং গোটা জাতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

