জেন-জি থেকে প্রবীণদের শেখার আছে অনেক কিছু

জেন-জি প্রজন্ম ভারতকে, বিশেষ করে জেনারেশন এক্সসহ বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষকে, তাদের কথা শুনতে বাধ্য করেছে। তাদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল এমন একটি দাবি নিয়ে, যা পূরণের জন্য একটি পরিণত গণতন্ত্রে জাতীয় আন্দোলনের প্রয়োজন হওয়ার কথা ছিল না। তরুণেরা প্রতিবাদের রাজনৈতিক ভাষাই বদলে দিয়েছেন। অপমানের বিরুদ্ধে মর্যাদা পুনরুদ্ধারের দাবিটি তারা টিকে থাকা, সম্মিলিত শক্তি ও সংহতির পরিচয়ে রূপান্তর করেছেন। তাদের ছোট করার জন্য ব্যবহৃত একটি নামকে তারা দৃঢ়তা ও সংহতির প্রতীকে পরিণত করেছেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সম্মিলিত পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে তারা অপমানকে আশায় রূপ দিতে সক্ষম হয়েছেন। যেখানে বিচ্ছিন্ন হতাশা সাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল, সেখানে তারা সংহতিকে এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

হাস্যরস তাদের সর্বব্যাপী ভয়কে ভোঁতা করতে সাহায্য করেছে এবং ক্ষমতাবানদের নীরবতা প্রত্যাশার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। প্রচলিত গণমাধ্যম যখন ঘটনাগুলো যথাযথভাবে দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে, আন্দোলনকারীরা নিজেরাই ক্যামেরা হাতে মুঠোফোন ব্যবহার করে নিজেদের কথা তুলে ধরেছেন। তারা পাল্টা নজরদারি চালিয়ে জবাবদিহি দাবি করেছেন। কেউ কেউ তাদের এই পদ্ধতিকে অশালীন বললেও, তারা হাস্যরসের রাজনৈতিক শক্তি বুঝতে পারেননি। ব্যঙ্গ আনুষ্ঠানিক বক্তৃতার চেয়ে দ্রুত ক্ষমতাবানদের অহংকার প্রকাশ করতে পারে এবং ভিন্ন মতাদর্শের মানুষকে একত্র করতে সাহায্য করে।

তরুণদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক নীতি—নির্বাচনী ম্যান্ডেট কোনো সরকারকে নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে নাগরিকদের কাছে জবাবদিহি থেকে মুক্ত করে না। গণতন্ত্র কেবল সংসদ ও নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সংগঠন, স্বাধীন গণমাধ্যম ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মধ্যেও বেঁচে থাকে। একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলো গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও, এই আন্দোলনের গভীর তাৎপর্য হলো—সংগঠিত নাগরিকেরা এখনো শক্তিশালী সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারেন, এই বিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়া।

এখন আমাদের দায়িত্ব হলো গ্রেপ্তার, অপবাদ ও ক্লান্তির সময়ে তাদের পাশে থাকা এবং তাদের দাবি আইনসভায় তুলে ধরা। এ আন্দোলন প্রজন্মগুলোর মধ্যে নতুন সংলাপের সুযোগ তৈরি করেছে। প্রবীণ প্রজন্মের কাছে রয়েছে কর্তৃত্ববাদ, জাতপাত, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের স্মৃতি। এই ঐতিহাসিক স্মৃতি যখন এমন এক প্রজন্মের সঙ্গে যুক্ত হয়, যারা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সীমাবদ্ধতা মানতে রাজি নয়, তখন গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয়। আন্তপ্রজন্ম সংহতির অর্থ তরুণদের অপেক্ষা করিয়ে রেখে প্রবীণদের রাজনীতির দিক নির্ধারণ করা নয়, বরং ক্ষমতার কাঠামোয় থাকা মানুষদের তরুণদের কথা শোনা ও সুযোগ দেওয়া।

আন্দোলনের পরবর্তী রূপ কী হবে—তারা কি আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল হবে, নাকি জবাবদিহির পবিত্রতা বজায় রাখবে—তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার আন্দোলনকারীদেরই। ১৯৬৮ সালের মে মাসে প্যারিসের শিক্ষার্থীদের সেই আহ্বান আজও প্রাসঙ্গিক, ‘বাস্তববাদী হও, অসম্ভব দাবি করো।’