রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে মেধা, দক্ষতা ও সততাকে পদোন্নতির মূল মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘নৌ বাহিনী ও বিমান বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরজমিন পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদ, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ছাত্র-জনতা এবং ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে হতাহত সকলের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। এছাড়া মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের আত্মত্যাগের কথাও তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে উল্লেখ করেন।
নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলী, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততাকে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় নৌ ও বিমান বাহিনীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। এই ত্যাগ স্বীকারের জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এই পর্ষদের কার্যক্রমের মাধ্যমে দুই বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু হলো। এতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদবির যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এই পর্ষদ ভবিষ্যৎ সিনিয়র নেতৃত্বের জন্য দক্ষ কর্মকর্তাদের নির্বাচন করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং নৌ বাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিজবাহ উল আজীম। পরিদর্শনকালে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার ও প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

