নবম পে স্কেল পর্যালোচনায় ৫ মন্ত্রীকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের নতুন কমিটি

জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে সরকার নতুন করে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। কমিটির মূল দায়িত্ব হলো জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদনটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করা। এছাড়া প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রয়োজনে কমিটি নতুন কোনো সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত বা কো-অপ্ট করতে পারবে।

কমিটির অন্যান্য সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। অর্থ বিভাগ এই কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে এবং কমিটির সভাগুলো প্রয়োজনের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল নবম পে স্কেল পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের আহ্বায়কে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যা সচিব কমিটি হিসেবে পরিচিত। এই কমিটি তাদের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন সরকারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপের সৃষ্টি করেছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য, এলএনজি ও এলপিজি কিনতে দ্বিগুণ ব্যয় এবং ডিজেলে ভর্তুকি দেওয়ার পাশাপাশি ডলারের দাম বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারকে হাজার হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে। তবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামোর গেজেট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই এবং এটি বাস্তবায়নে বড় কোনো বিলম্ব হবে না। অষ্টম জাতীয় পে স্কেল ঘোষণার প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।