নবীনগরে সাংবাদিকের সঙ্গে মহিলাদলের বহিষ্কৃত নেত্রীর অশালীন আচরণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও আমার দেশের উপজেলা প্রতিনিধি জালাল উদ্দিন মনিরের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বহিষ্কৃত নেত্রী নায়লা ইসলামের বিরুদ্ধে। তথ্য অনুসন্ধানের সময় একজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে এমন আচরণের ঘটনায় নবীনগরে ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

জানা যায়, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে নায়লা ইসলামকে বহিষ্কার করা হয়। মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তার সদস্যপদ ও সকল পর্যায়ের পদ-পদবি বাতিলের কথা জানানো হয়েছিল। এর আগের দিন ২১ জানুয়ারি ডেমরায় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

মহিলা দল থেকে বহিষ্কারের পর নায়লা ইসলাম এনসিপিতে যোগ দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম তুলেছিলেন। তবে মনোনয়ন না পেয়ে তিনি পুনরায় বিএনপির ব্যানারে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকলেও তিনি দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, যা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে জানতে জালাল উদ্দিন মনির নায়লা ইসলামের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠান। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি মুঠোফোনে কল করলে নায়লা ইসলাম উত্তেজিত হয়ে তাকে ও তার মাকে অশালীন ভাষায় গালমন্দ শুরু করেন বলে অভিযোগ। সাংবাদিক তাকে বারবার ‘বোন’ সম্বোধন করলেও তার অশালীনতা কমেনি এবং একপর্যায়ে তিনি সালেহা আক্তার নামে মহিলা দলের আরেক নেত্রীর চরিত্রহননমূলক মন্তব্য করেন।

পরবর্তীতে নায়লা ইসলাম জালাল উদ্দিন মনিরকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পোস্ট দিলে বিভ্রান্তি ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিক সেই অডিও রেকর্ড ফেসবুকে প্রকাশ করলে স্থানীয় শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। একজন সাংবাদিকের সঙ্গে এমন অশালীন আচরণের ঘটনায় এলাকায় নিন্দার ঝড় বইছে।