সরকারি চাকুরিজীবীদের সুযোগ-সুবিধায় বড় পরিবর্তন, কমছে নববর্ষের ভাতা

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোয় সুযোগ-সুবিধায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর (15 September 2026) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এই নতুন কাঠামোর আওতায় নিম্ন গ্রেডে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হলেও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে নববর্ষের ভাতা। এছাড়া সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পেনশনের সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি চিকিৎসা, যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। নতুন এই বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং অর্থ বিভাগ এটি শিগগিরই ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বর্ধিত মূল বেতন ও নিট পেনশন আগামী ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, যার প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে। তবে বিভিন্ন ধরনের ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হবে। এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে মূল বেতন ও নিট পেনশন বাবদ মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান বরাদ্দের চেয়ে ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা বেশি। পরবর্তী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে এই খাতে লাগবে ২ লাখ Contrast ৩ লাখ না, ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা।

সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ নীতি বাস্তবায়নের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেড-৬ ও এর নিচের গ্রেডগুলোর জন্য বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ, গ্রেড-৪ ও ৩-এর জন্য ৩.৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এর জন্য ২.৭৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এলাকাভিত্তিক বাড়িভাড়া ভাতায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের জন্য বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার পৌরসভার জন্য ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য গ্রেডভেদে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ বাড়িভাড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা, ৫০ বছর ১ দিন থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত ৪,০০০ টাকা, ৬০ বছর ১ দিন থেকে ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত ৫,০০০ টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৳৬,০০০ চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিজিটাল কাজের পরিধি বাড়ায় এবার সব গ্রেডের কর্মচারীদের মোবাইল ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। পূর্বে কেবল পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত এটি সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন নিয়মে পঞ্চম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা ৫০০ টাকা এবং ষষ্ঠ ও এর নিচের গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫০ টাকা করে মোবাইল ভাতা পাবেন। এছাড়া যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী সন্তানদের কল্যাণে নতুন করে প্রতি সন্তানের জন্য ৩,০০০ টাকা ভাতা চালু করা হচ্ছে, যা সর্বোচ্চ দুজন সন্তান পর্যন্ত পাওয়া যাবে। তবে বাংলা নববর্ষের ভাতা বিদ্যমান ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা মূল বেতনের ১০ শতাংশ এবং ঝুঁকি ও বিশেষ ভাতা ক্ষেত্রবিশেষে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে ভাতার সীমা পার্বত্য জেলা সদর ও সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা, অন্যান্য পাহাড়ি এলাকায় সর্বোচ্চ ৫২০০ টাকা এবং হাওড়, দ্বীপ বা চর এলাকায় মূল বেতনের ২০ শতাংশ হার অপরিবর্তিত রেখে সর্বোচ্চ সীমা ৫০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য প্রতিরক্ষা, কিট, ডেঞ্জার মানি, দোভাষী ও শিক্ষকতা ভাতাসহ বেশিরভাগ ভাতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান হারের ওপর ১০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে শিক্ষা সহায়ক, কার্যভার, আপ্যায়ন ও উৎসব ভাতা আগের হারেই বহাল থাকছে।

সার্বিক বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদার জানান, সরকার নিজেদের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ করার চেষ্টা করেছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে তিন ধাপে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তকে তিনি যৌক্তিক বলে মনে করেন।

এছাড়া সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতা দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি, বয়স অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা এবং ১৫০-৫০০ টাকা পর্যন্ত মোবাইল ভাতা দেওয়ার বিধান রেখে সামরিক ও বেসামরিক খাতের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থ বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে। শিগগির ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে অর্থ বিভাগ।

কর্মচারীদের আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে বাড়িভাড়া ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এলাকাভিত্তিক এই ভাতার নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে যার মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের জন্য মূল বেতনের ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ, অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার পৌরসভার জন্য মূল বেতনের ৩০-৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকার গ্রেডভেদে মূল বেতনের ২৫-৪৫ শতাংশ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।