জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী মাছুদা বেগমকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার মাছুদা বেগম বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার রাতে মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বছির উদ্দিনের দায়ের করা মামলায় শুক্রবার রাতেই মেহেদী হাসান ওরফে শাপলাকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে কালাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান কালাই উপজেলার হারুঞ্জা শাহাপাড়া গ্রামের মৃত আবদুস সামাদের ছেলে। মাছুদার বাড়ি পাশের ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া গ্রামে। প্রায় ২০ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয় এবং তাঁদের ১২ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই মেহেদী হাসান তাঁর স্ত্রীর কাছে বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবি করে আসছিলেন এবং টাকা না দিলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
মামলার বাদী বছির উদ্দিন জানান, মাছুদা ২০ শতক জমি ভাগে পেয়েছিলেন। ওই জমি বিক্রির জন্য চাপ সৃষ্টি করে ভগ্নিপতি মেহেদী হাসান। পরে তাঁরা তাঁকে এক লাখ টাকা দিলেও তিনি আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এই টাকা না দেওয়ায় ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে মাছুদার হাত-পা বেঁধে ঘরের ভেতর উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে নির্যাতন চালানো হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্লায়ার্স দিয়ে মুখে আঘাত করে মাছুদার দুটি দাঁত ভেঙে ফেলা হয় এবং কাস্তে গরম করে তাঁর হাত ও পায়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। নির্যাতনের পর মাছুদা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঘরের ভেতর আটকে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।

