বাংলাদেশের নির্বাচিত নতুন সরকারের সঙ্গে ভারত কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লির দ্বিমুখী ভূমিকায় দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার পতন ও পলায়নের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে দিল্লিতে বসে তাকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনাটি ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার সম্পর্কে নতুন ক্ষত তৈরি করেছে। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছিল, তা যেন এক স্থায়ী অস্থিতিশীলতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে।
এর আগে ভারত সরকার দেশটির সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছিল যে, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি থেকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। চলতি বছরের শেষ নাগাদ তার দেশে ফেরার ঘোষণার প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার এই অবস্থান জানিয়েছিল, যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে উঠে আসে। অথচ এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেল তার সরাসরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে। এই দ্বিচারিতায় ঢাকা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। গত বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসিনা ও তার অনুচরেরা এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোড়গার করেছেন। এটি জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি আঘাত বলে ঢাকা মন্তব্য করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হাসিনাকে কেন ভারত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দিল। একই সঙ্গে, ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ সত্ত্বেও ভারতের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এই কড়া অবস্থানের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তারেক রহমান সরকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করছেন অনেকেই।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। কূটনৈতিক মহলে প্রত্যাশা ছিল এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলাবে, কিন্তু দিল্লির সাম্প্রতিক আচরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরক্ত। সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে আশকারা দেওয়া, পুশইন ও সীমান্ত হত্যার মতো ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক। তিনি তার প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নিয়েছেন। বর্তমানে ব্রিকস সম্মেলনে তার অংশগ্রহণ নিয়ে কূটনৈতিক দরকষাকষি ও পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা।

