চাকসুর এক বছর: ইশতেহারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি এখনো অধরা

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। গত বছরের ২৩ অক্টোবর শপথ নেওয়া এই কমিটির মেয়াদের শেষ সময়ে এসে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন ও চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক সংকট নিরসনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বড় অংশই এখনো অধরা রয়ে গেছে। ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট’ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সময় ৩৩ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছিল, যার বড় একটি অংশ এখনো কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ৩৩ দফার মধ্যে ১৮টিই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এর মধ্যে আবাসনসংকট নিরসন, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও চিকিৎসাকেন্দ্রের মানোন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রয়েছে। যদিও ১০টি প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি এবং ৫টি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে, তবে এগুলো মূলত ছোট পরিসরের কাজ। ব্যক্তিগত ইশতেহারের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়; নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ২২২টি অঙ্গীকারের মধ্যে ১০৭টি এখনো অপূর্ণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট এখনো প্রকট, যেখানে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী হলের সুবিধা পান না। নির্বাচনের আগে হল সংস্কার, সম্প্রসারণ ও নতুন ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে মাত্র তিনটি হলের বর্ধিত অংশে ১৯৭ জন শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে। পরিবহন খাতে শাটল ট্রেনের বগি সংস্কার করা হলেও ট্রেনের সংখ্যা বাড়েনি এবং শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস সার্ভিস চালুর প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি, চাইল্ড কেয়ার ও দুগ্ধপান কর্নারের মতো দাবিগুলোও অপূর্ণ রয়ে গেছে।

চাকসুর সভাপতি ও উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকান জানিয়েছেন, প্রশাসন চাকসুকে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করেছে। তিনি জানান, আবাসন সমস্যার সমাধানের জন্য প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকার নতুন ডিপিপি জমার প্রক্রিয়া চলছে। তবে বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে চাকসুর চাহিদামত বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ভিপি মো. ইব্রাহীম হোসেন দাবি করেছেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আরও কিছু কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তিনি জানান, তারা একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নির্বাচন যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ না থাকাটা হতাশাজনক।

অন্যদিকে, বিরোধী ছাত্রসংগঠনগুলোর অভিযোগ, চাকসু নেতারা শিক্ষার্থীদের এজেন্ডার চেয়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। এজিএস আইয়ুবুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, তাকে শুরু থেকেই কার্যক্রমে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার মতামত নেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার মৌলিক পরিবর্তনে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।