বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সে নারী কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দৈনিক আমাদের সময়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নতুন অফিস আদেশ জারি করে প্রশিক্ষণের প্রথম ব্যাচেই চারজন নারী কর্মকর্তাকে যুক্ত করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের পরিচালনায় 'অ্যাপ্লাইড এআই ফর সেন্ট্রাল ব্যাংক অফিসিয়ালস' শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য বিভিন্ন বিভাগ থেকে মোট ৪৭৩ জন কর্মকর্তা আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ৬৫ জন ছিলেন নারী কর্মকর্তা। তবে প্রাথমিকভাবে প্রতিটি বিভাগের আবেদনকারীদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ৩০ সদস্যের যে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল, তাতে কোনো নারী স্থান পাননি। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংকটির ভেতরে ও বাইরে আলোচনা শুরু হলে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে।
নতুন অফিস আদেশ অনুযায়ী প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত হওয়া চার নারী কর্মকর্তা হলেন বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক আফসানা রহমান, পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ-১ এর অতিরিক্ত পরিচালক নাজিয়া হক, ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগ-১০ এর উপ-পরিচালক শামীমা আফরোজ এবং ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এর উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রশিক্ষণের মোট আসনসংখ্যা ৩০টি অপরিবর্তিত রাখতে চারজন পুরুষ কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে তাদের স্থলে এই চার নারী কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। নারী আবেদনকারীদের অংশগ্রহণের হার, যা মোট আবেদনের প্রায় ১৪ শতাংশ, সেটিও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে আরও একাধিক ব্যাচ পর্যায়ক্রমে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যেখানে এবার সুযোগ না পাওয়া কর্মকর্তারা আবেদন করতে পারবেন।
আগামী ২০ জুলাই থেকে ১২ সপ্তাহব্যাপী এই কোর্স শুরু হবে, যেখানে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন করে মোট ২৪টি ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত সক্ষমতা উন্নয়নে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অঙ্গীকারবদ্ধ বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ভবিষ্যতমুখী প্রযুক্তি নিয়ে এই প্রশিক্ষণ কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নারী কর্মকর্তাদের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

