ঝুঁকিপূর্ণ ফুলবাড়ী-সান্তাহার রেলপথ, ট্রেনের চাপে নড়বড়ে রেললাইন

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থেকে বগুড়ার সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত বিস্তৃত ৭৭ কিলোমিটার রেলপথের বিভিন্ন অংশে শত শত কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে যাওয়ায় ট্রেন চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই রুটের বিরামপুর, হিলি (হাকিমপুর), জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পাঁচবিবি ও বাগজানা এবং আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ও জামালগঞ্জ স্টেশন এলাকার রেললাইনগুলো বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনেও রেলপথটির সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যার ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। রেলপথের অনেক জায়গায় রেললাইন আটকে রাখার প্যান্ড্রল ক্লিপ নেই এবং জোড়াগুলোর অবস্থাও নড়বড়ে। চলাচলকারী ট্রেনের চাপে রেললাইন বিপজ্জনকভাবে ওঠানামা করছে। মোবারকপুর রেলগেট এলাকার মুদি দোকানি হামিদুল হকসহ স্থানীয়রা জানান, ৩৬৪/১ থেকে ৩৬৪/৪ কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে স্লিপার ভেঙে গেছে। কোনো কোনো স্লিপারের কংক্রিট ভেঙে রড বেরিয়ে আসায় রেললাইন আটকে রাখার প্যান্ড্রল ক্লিপগুলো ছুটে গেছে।

গত ২৩ মার্চ সকালে ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলপথের ৩৫২/৫ থেকে ৩৫২/৬ কিলোমিটারের মাঝামাঝি এলাকায় একটি কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে যায়। বিষয়টি স্থানীয় ৬৫ বছর বয়সী কৃষক এনামুল হকের চোখে পড়লে তিনি তাৎক্ষণিক কলার মোচার লাল পাতা দেখিয়ে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান যাত্রীরা।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ৭৭ কিলোমিটার রেলপথ দেখভালের দায়িত্বে থাকা জনবলের অর্ধেকেরও বেশি পদ শূন্য। উপসহকারী প্রকৌশলী পদে কেউ নেই। কীম্যানের ১০টি পদ খালি থাকলেও তাদের প্রতিদিন সকাল ৭টার মধ্যে রেললাইন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা। এছাড়া ট্রলিম্যানের চারটি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন, তিনজন নিরাপত্তাকর্মীর পদের মধ্যে রয়েছেন একজন, এবং বেলোম্যানের দুটি পদই শূন্য। হ্যামারম্যান থাকার কথা তিনজন, কিন্তু আছেন মাত্র একজন।

ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনন্দ চক্রবর্তী জানান, এই পথে প্রতিদিন ডাউনে ১২টি এবং আপে ১২টি ট্রেন চলাচল করে। ৩৬৫/৪ থেকে ৩৬৫/৫ কিলোমিটার এলাকার রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ওই অংশ দিয়ে ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল রেলওয়ের পার্বতীপুরের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পিডব্লিউআই-পথ) শেখ আল আমিন এ নির্দেশ দেন। এরপর থেকে ওই অংশে ট্রেনের গতি কমিয়ে চলাচল করা হচ্ছে।

পাকশী রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথের স্থায়ী সংস্কারের জন্য তিনটি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এসব কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।