ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় জুয়া ও মাদকের আসর বসানোর অভিযোগে একটি ঘর ভেঙে দিয়েছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। সোমবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কলতাপাড়া ও পার্শ্ববর্তী তারাকান্দা উপজেলার বিসকা ইউনিয়নের বাথুয়াদি গ্রামের সীমানা এলাকায় খোকন নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে বেশ কিছুদিন ধরে 'ওয়ান টেন' নামক জুয়ার আসর চলছিল। একই স্থানে নিয়মিত ইয়াবা বেচাকেনা ও সেবনের ঘটনাও ঘটছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। জুয়া ও মাদকের কারণে এলাকায় চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং স্থানীয় তরুণেরা মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ায় গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই সোমবার মধ্যরাতে একদল বাসিন্দা একত্রিত হয়ে ওই ঘরটি ভেঙে দেন।
এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রায় প্রতিদিন গভীর রাত থেকে শুরু করে ভোর পর্যন্ত সেখানে জুয়ার আসর বসত। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে এই আসরে যোগ দিত। পাশাপাশি সেখানে মাদক সেবন ও বেচাকেনাও চলত। আনোয়ার হোসেন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, জুয়ার আসর চালু হওয়ার পর থেকেই এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা অনেক বেড়েছে। তরুণদের মাদকাসক্তি বাড়তে থাকায় স্থানীয় মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন। তানভীর ইসলাম নামের আরেকজন জানান, জুয়া ও মাদকের প্রভাবে এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও অপরাধ বাড়ছিল। বারবার সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় গ্রামবাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওই আসর ভেঙে দিয়েছেন।
এদিকে, এই জুয়ার আসরের সঙ্গে ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে সাইফুল ইসলাম এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তিনি জুয়া বা মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত নন, বরং স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তবে ঘটনার রাতে তিনি ওই স্থানে গিয়েছিলেন বলে স্বীকার করে বলেন, তিনি জুয়া খেলতে সেখানে গেলেও পরিস্থিতি খারাপ দেখে না খেলেই ফিরে আসেন। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে আশরাফুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে মামুনের বিরুদ্ধেও মাদক সেবন ও কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, বিষয়টি জানার পর গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

