সরকারি কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক পদে নন-ক্যাডার ও আত্তীকৃত শিক্ষকদের পদায়নের প্রতিবাদে বরিশালে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা এক ঘণ্টার কলমবিরতি কর্মসূচি পালন করেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
কর্মসূচিতে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, বরিশাল সরকারি কলেজ, সরকারি হাতেম আলী কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ এবং সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষকদের অভিযোগ, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের বাইরে থাকা নন-ক্যাডার ও আত্তীকৃত শিক্ষকদের প্রশাসনিক পদে পদায়ন করা হলে ক্যাডার কাঠামো এবং পদোন্নতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই ধরনের পদায়ন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএম কলেজের শতাধিক শিক্ষক অধ্যক্ষের কার্যালয়ে গিয়ে উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন পাওয়া অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে যোগদান না করানোর আহ্বান জানান। বিএম কলেজের সহকারী অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম জানান, ২০১৭ সাল থেকেই তারা ‘নো বিসিএস, নো ক্যাডার’ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি বিএম কলেজসহ তিনটি প্রতিষ্ঠানে নন-ক্যাডার শিক্ষকদের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। জানা গেছে, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ মঙ্গলবার যোগদানের জন্য অধ্যক্ষের দপ্তরে যাননি।
এদিকে বিসিএস শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আবুল কালাম আজাদের পদায়নের পেছনে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বরিশাল সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ফোরকান মিয়া এবং সরকারি হাতেম আলী কলেজের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কর্মসূচিতে শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে নন-ক্যাডার শিক্ষককে অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়নের প্রতিবাদে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা ক্যাম্পাসে গিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। শিক্ষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ক্যাডার কাঠামোর নিয়ম এবং পেশাগত মর্যাদা রক্ষা করা আবশ্যক। এই দাবি মেনে নেওয়া না হলে তারা ধারাবাহিক ও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

