সাংবাদিককে হত্যার হুমকি: নোয়াখালীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন

নোয়াখালীর কবিরহাটে সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক জনবাণীর সাংবাদিক মোহাম্মদ শহিদকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাটইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের জসিমের বিরুদ্ধে। হুমকির মধ্যে ‘হাত-পা ভেঙে পঙ্গু করে দেওয়া’র মতো গুরুতর বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন জেলার সাংবাদিকরা। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, আব্দুল কাদের জসিম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। এসব বিষয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা অতীতেও থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেছেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর মারজাহান বেগম নামে এক নারী কবিরহাট থানায় আব্দুল কাদের জসিমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে জসিম তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না করে টাকা আত্মসাৎ করেন। টাকা ফেরত চাইলে তাকে ভয়ভীতি ও গালিগালাজ করা হয়।

সাংবাদিক মোহাম্মদ শহিদ তার প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করার পর থেকেই তাকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া শুরু হয় বলে মানববন্ধনে দাবি করা হয়। এমনকি কর্মসূচিতে অংশ না নিতেও তাকে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক শহিদ জানান, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে তথ্য-প্রমাণসহ সংবাদ প্রকাশের পর থেকে জসিম ও তার সহযোগীরা তাকে এবং তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মানববন্ধন থেকে সাংবাদিকরা জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রতি আব্দুল কাদের জসিমের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো জানান, আব্দুল কাদের জসিমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো তাদের নজরে এসেছে এবং সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।