সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় দম্পতি ও তাদের গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া (৪০) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে তার এই জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বিচারক তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
কোর্ট পরিদর্শক সৈয়দ মাহবুবুল হক জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামি বাবুল মিয়া দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তবে বাবুল নতুন কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে দুপুরে কড়া নিরাপত্তায় বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, আদালতে হাজির করার পর বাবুল নিজেই ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। গত ১৬ আগস্ট সকালে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছিল এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। ঘটনার দিন বিকেল তিনটার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা প্রয়াত নূর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াকে আটক করে পুলিশ, পরে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

