অফিস রুমে বসে বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতাটি ছিল অনন্য। আবদুর রহমান, রেজানুর রহমান, শামসুল হক এবং সুমন চিশতীর মতো সিনিয়র চলচ্চিত্র সাংবাদিকদের সঙ্গে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ ছিল আমাদের। যখন বাংলাদেশ দল র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করল, তখন পুরো অফিস কক্ষ করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। এই জয় আমাদের ১৯৯৭ সালের প্রথম আইসিসি ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দের কথা মনে করিয়ে দেয়। ডারউইনের মাঠে উপস্থিত বাঙালি দর্শকদের জয়ধ্বনি আমাদের দেশপ্রেমকে আরও উসকে দিয়েছিল।
ক্রিকেটের এই জয় আমাদের জন্য নতুন নয়; ভারত, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলকে হারানোর গৌরবও আমাদের রয়েছে। কিন্তু এই জয়গুলো আমাদের একসূত্রে গাঁথে। আঠারো কোটি মানুষের এই দেশে এগারো জন খেলোয়াড় যখন জয় এনে দেন, তখন আমরা সবাই আনন্দিত হই। খেলা উপভোগের পাশাপাশি আমরা প্রতিটি কাজেই বিশ্বের বুকে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করি।
তবে খেলার বাইরের বাস্তবতায় আমাদের কিছু সংকটও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে, যা মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, গ্যাসের মজুত সীমিত এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তেলের সংকটও দীর্ঘ হতে পারে। এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতনতা ও মিতব্যয়িতা খুবই জরুরি।
ঢাকা শহরে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখন অনেক পরিবর্তন এসেছে। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে মেট্রোরেল বা পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ব্যবহার বাড়ালে জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব। এছাড়া, প্রতিবেশী বা বন্ধুদের সঙ্গে গাড়ি শেয়ারিংয়ের মাধ্যমেও গাড়ির ব্যবহার কমানো যায়। আঠারো কোটি জনসংখ্যার এই দেশে ছত্রিশ কোটি হাতকে কাজে লাগাতে পারলে কোনো সমস্যাই বড় নয়।
আবাসিক গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অপচয় রোধ করা প্রয়োজন। অনেক সময় চুলা জ্বালিয়ে রাখার প্রবণতা দেখা যায়, যা কাম্য নয়। যদিও মানুষ আগের চেয়ে সচেতন হয়েছে, তবুও প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহারে আরও মিতব্যয়ী হতে হবে। নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও তা থেকে সঠিক উত্তোলনের মাধ্যমে আমরা এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে পারি। এছাড়া সরকার ইলেকট্রিক গাড়ি ও বাস আমদানির মাধ্যমে তেল-গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে আমরা প্রত্যেকে যদি সচেতন হই, তবেই তা হবে দেশপ্রেমের প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ।
বাংলাদেশ যখন ১ম আইসিসি ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন হলো।

