জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস কাতারের

বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানি। বুধবার (১৯ আগস্ট) দোহায় কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এই নিশ্চয়তা প্রদান করেন। এ সময় কাতারের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান কাতারের নেতৃত্বের কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পাশাপাশি অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বর্তমান চ্যালেঞ্জিং প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এছাড়া, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাতারের গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান কাতারের প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সফলভাবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কাতারের পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এর আগে সফরের প্রথম দিন মঙ্গলবার কাতারের অর্থমন্ত্রী আলী বিন আহমেদ আল কুওয়ারীর সঙ্গে বিনিয়োগ ও ব্যাংকিং খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন খলিলুর রহমান। এছাড়া, কাতার অ্যানার্জির সদরদপ্তরে দেশটির জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী সাদ শেরিদা আল কাবীর সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সহযোগিতা এবং এলএনজি সরবরাহ খাতে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখির সঙ্গেও আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।