রামগঞ্জে নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামবৃদ্ধি, চরম বিপাকে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো সংসার চালাতে চরম হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। শ্রমজীবী ও স্বল্প বেতনের চাকরিজীবী মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই নীরব, সামাজিক সংকোচের কারণে অনেকেই নিজেদের কষ্টের কথা প্রকাশ করতে পারছেন না।

খেটে খাওয়া মানুষ কোনোমতে চাল ও আটা কিনতে পারলেও মাছ, মাংস এবং শাকসবজি কেনা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রামগঞ্জ ও সোনাপুর বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এখানে একটি পাইকারি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। সরেজমিনে দেখা যায়, একই পণ্য বিভিন্ন দোকানে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে চায়না ও দেশি রসুন ৯০ থেকে ১৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা এবং চিনি ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জিরা, গোলমরিচ ও এলাচির দামও বেড়েছে। ফার্মের ডিম আটটি ১০০ টাকা এবং দেশি ডিম প্রতিটি ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে শিশু খাদ্য ও গুঁড়া দুধের। শিশুদের গুঁড়া দুধের দাম ১০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া বায়োমিল দুধ ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫০ টাকা এবং ফাহিমা দুধ ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্যাসের দাম ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯০০ টাকায় পৌঁছেছে। কাঁচাবাজারে সিম ১৪০-১৫০ টাকা, টমেটো ১৪০-১৭০ টাকা, ফুলকপি ১৫০ টাকা, মুলা ৬০-৮০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা, লালশাক ৮০-১০০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা এবং শসা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে তেলাপিয়া ২৫০-২৮০ টাকা, রুই ৩৮০-৪৫০ টাকা, ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের মুরগি ১৮০ টাকা, কর্ক মুরগি ৩৫০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের অভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ব্যবসায়ী জাকির, আবির, ফারুক ও হোসেন জানান, দাম বৃদ্ধির ফলে ক্রেতাদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা বাড়ছে এবং বিক্রিও কমেছে। স্বল্প বেতনের চাকরিজীবী আনোয়ার হোসেন, আবদুর রহিম ও ইউছুপ আলীর ভাষ্য, বেতন দিয়ে মাসের বাজার করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, বর্ষাকালে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েছেন এবং প্রশাসন নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে, যা জনস্বার্থে অব্যাহত থাকবে।