প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাতে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যয়, বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি এবং ক্রমবর্ধমান বাজেট ঘাটতির সুদ পরিশোধের চাপে সরকারের বড় একটি অংশ ব্যয় করতে হচ্ছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কেবল ঋণ পরিশোধ ও সংশ্লিষ্ট খাতে চলে যাচ্ছে।

ঋণের এই রেকর্ড গড়ার মাত্র পাঁচ মাস আগে, গত মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। পূর্বাভাসের তুলনায় ঋণের পরিমাণ আরও দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে বাতিল হওয়া শুল্ক থেকে রাজস্ব ঘাটতিকেও এই দ্রুত ঋণের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব শুল্ক থেকে প্রত্যাশিত কয়েক বিলিয়ন ডলার রাজস্ব না আসায় সরকারের বিভিন্ন ব্যয় মেটাতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে বাধ্য হয়ে দ্রুত ঋণ নিতে হয়েছে।

সরকারি ঋণের এই মাইলফলক ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকা টানাপোড়েনকে সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা, অন্যদিকে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম কমানোর লক্ষ্য—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রেও প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে। ফলে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সরকারের অন্যান্য ব্যয় সামলানোও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

এপি-র তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এই সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন—উভয়ই প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া গত ২০ বছরেরও কম সময়ে দেশটির সরকারি ঋণ চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখন মার্কিন অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে।