সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার রোধে কঠোর নীতিমালা থাকলেও তা অমান্য করে দ্বৈত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সরকারি গাড়ি ব্যবহারের পাশাপাশি তিনি প্রতি মাসে রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগার থেকে উত্তোলন করতেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। নিয়ম ভেঙে একই সাথে গাড়ি ও নগদ অর্থ সুবিধা গ্রহণের এই ঘটনায় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
‘গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা-২০২০’ অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি ও চালকের বেতন বাবদ নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা মেইনটেনেন্স সুবিধা গ্রহণ করলে তিনি অধিদপ্তরের বা অন্য কোনো সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন না। কিন্তু ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামান ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রতিনিয়ত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিজস্ব গাড়ি ও সরকারি জ্বালানি ব্যবহার করে আসছিলেন। একদিকে সরকারি অর্থ নিজের পকেটে ভরা এবং অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় গাড়ি ব্যবহার করাকে চরম নীতিবিগর্হিত ও স্পষ্ট দুর্নীতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
কেবল গাড়ি বিলাসের সুবিধাই নয়, মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ড. সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন প্রকল্প, কেনাকাটা এবং প্রশাসনিক বদলি ও পদায়নেও ব্যাপক স্বেচ্ছাচারিতা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ করানো এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর ক্ষমতার দাপট দেখানোর বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
এসব অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছানোর পর সম্প্রতি তাকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে অবমুক্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অর্থ লোপাট এবং নিয়মের বাইরে গিয়ে দ্বৈত সুবিধা নেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা সরকারি অডিট ও তদন্তের মাধ্যমে নিরূপণ করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ড. গাজী মোঃ সাইফুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

