কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। আজ বুধবার বেলা তিনটা থেকে এই সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ফলে দেশজুড়ে চলমান গ্যাস-সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। মূলত নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় এবং মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
জ্বালানি বিভাগের অধীনে এলএনজি আমদানি তদারকি করে পেট্রোবাংলা। আর আমদানির দায়িত্বে রয়েছে তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কম দামে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে বেশ কিছু কার্গোর ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছিল। চলতি মাসে এমন চারটি কার্গো আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও এসে পৌঁছায়নি। ফলে টার্মিনাল প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও এলএনজি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
মহেশখালীতে এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে—একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি দেশি প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের। গত ২১ জুলাই এক অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ ২৫ দিন পর গত শনিবার এটি আংশিক চালু করা হয় এবং সামিটের টার্মিনালটি পুরোদমে সচল হয়। তবে নতুন কার্গো না থাকায় এক্সিলারেট তাদের পুরোনো মজুত থেকে আংশিক সরবরাহ শুরু করে, যা গত সোমবার থেকে কমতে থাকে। আগামী ২৩-২৪ আগস্টের আগে এক্সিলারেটের জন্য নতুন কার্গো আসার সম্ভাবনা নেই। তবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার একটি কার্গো আসতে পারে, যা সামিটের টার্মিনালে যুক্ত হতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিন এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধই থাকবে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যার বিপরীতে সাধারণত ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০৫ কোটি ঘনফুট আসে এলএনজি থেকে, যা এক্সিলারেট (দৈনিক সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট) ও সামিটের (দৈনিক সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট) পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। গত শুক্রবার বিকেলে দুটি টার্মিনালই বন্ধ থাকায় মোট সরবরাহ নেমেছিল ১৬৪ কোটি ঘনফুটে। এরপর সামিট সরবরাহ শুরু করলে শনিবার সকালে তা ২৪২ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হয়। তবে রোববার তা ২৪০ কোটি এবং সোমবার ২২৮ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। আজ বুধবার এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধের পর মোট গ্যাস সরবরাহ ২১৮ কোটি ঘনফুটে এসে ঠেকেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার এলএনজি থেকে ৬৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল। আজ এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলএনজি সরবরাহ মাত্র ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে দেশের শিল্পকারখানা ও আবাসিক খাতে গ্যাসের সংকট আরও প্রকট রূপ নিয়েছে।

