বিজেপির মুখপাত্রের পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়লেন শেহজাদ পুণাওয়ালা

ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সর্বভারতীয় মুখপাত্রের পদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শেহজাদ পুণাওয়ালা। সোমবার (১৯ আগস্ট) বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীনের কাছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর আগে গত ৩০ জুলাইও তিনি দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে সে সময় বিজেপির পক্ষ থেকে তাকে এই সিদ্ধান্তটি পুনরায় ভেবে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দলের সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে তিনি পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন।

সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে শেহজাদ পুণাওয়ালা জানান, দীর্ঘ সময় ধরে চিন্তাভাবনার পরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। মূলত জরুরি আর্থিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে রাজনীতি থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়িয়ে আবারও বেসরকারি খাতে চাকরিতে ফিরতে চান তিনি। শেহজাদের দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকেই তিনি রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে পুনরায় চাকরিজীবনে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন। বিজেপির মুখপাত্রের দায়িত্বটি কোনো বেতনভুক্ত পদ নয়, বরং এটি একটি স্বেচ্ছাসেবী পদ। ফলে নিজের আর্থিক প্রয়োজন মেটাতেই তাকে নতুন করে কর্মজীবনে ফিরতে হচ্ছে।

শেহজাদ আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির পেছনে তিনি বছরের প্রায় প্রতিটি দিনই সময় দিয়েছেন। তবে একপর্যায়ে এসে চাকরি ও সক্রিয় রাজনীতির মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। আর সেই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েই তিনি শেষ পর্যন্ত চাকরিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বেছে নিয়েছেন।

মহারাষ্ট্রের একটি সংখ্যালঘু পরিবারে জন্মগ্রহণ করা শেহজাদের রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়েছিল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআইয়ের (NSUI) হাত ধরে। পরবর্তীতে তিনি এই সংগঠনটির পুনে কমিটির সভাপতি এবং মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া এআইসিসির (AICC) মিডিয়া সেলের গবেষণা বিভাগেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

বিজেপির জাতীয় পদাধিকারীদের মধ্যে বড় ধরনের রদবদল চলার সময়েই শেহজাদের দল ছাড়ার এই ঘটনাটি ঘটেছে। আর এ কারণেই ভারতের রাজনৈতিক মহলে তার এই পদত্যাগের সময়টি নিয়ে বেশ আলোচনা ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। অবশ্য শেহজাদ পুণাওয়ালা কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিরোধের কথা স্পষ্টভাবেই অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ব্যক্তিগত ও আর্থিক সংকটই তার এই সিদ্ধান্তের একমাত্র মূল কারণ।

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ১৭আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ৩৬