যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র রাষ্ট্র ওমানকে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজের বরাতে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন ওমান যদি ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের আলোচনায় কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করে, তবে দেশটিতে বোমা হামলা চালানো হবে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদকের ভাষ্যমতে, একটি ফোন সাক্ষাৎকারের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওমানের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছেন।
ইরানের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এই জলপথটি পুনরায় খুলে দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ওমান আলাদাভাবে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান ও ওমান এ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে বলে সোমবার ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। এদিকে, ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই।
হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত ওমান এই সংঘাতে নিজেকে নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে দেশটি ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জলপথটি সচল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ট্রাম্পের হুমকি প্রসঙ্গে ফক্স নিউজের প্রতিবেদক ট্রে ইংস্ট জানিয়েছেন, ট্রাম্প ওমানকে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে তাদের বাধা হয়ে দাঁড়ানোটা ভয়াবহ বোমা হামলার কারণ হবে। তবে ট্রাম্পের কাছে ‘বাধা হয়ে দাঁড়ানো’র সংজ্ঞাটি স্পষ্ট নয়।
একই সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন যে, ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন যোগাযোগের একটি চ্যানেল রয়েছে। তবে আইআরজিসির মুখপাত্র এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাসনিম নিউজের মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকানদের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না এবং ট্রাম্পের এই বক্তব্য তার হতাশা ও ভ্রান্ত কল্পনার ফসল। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছিলেন, পণ্য পরিবহনের পথ নিয়ে তারা ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ওপরই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেয়া নির্ভর করছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এমওইউ-এর শর্ত লঙ্ঘন করেছে।

