বরগুনায় পরকীয়া দেখে ফেলায় বড় বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা, মামলা

বরগুনার পাথরঘাটায় ছোট বোনের সঙ্গে এক ব্যক্তির কথিত পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি দেখে ফেলায় বড় বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় নাসির উদ্দিন (৩৫) ও তাঁর সহযোগী রুস্তমকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন পাথরঘাটা উপজেলার কালিপুর গ্রামের আমির আলীর ছেলে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি মামলাটি গ্রহণ করেন। আদালত একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য পাথরঘাটার লেমুয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী নারী জানান, তিনি ও তাঁর তালাকপ্রাপ্ত ছোট বোন বাবার বাড়িতে পাশাপাশি ঘরে টিনের বেড়া দিয়ে বসবাস করেন। প্রতিবেশি নাসির উদ্দিন প্রায়ই ছোট বোনের ঘরে আসতেন এবং তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হতো। গত ১৩ আগস্ট দুপুরে নাসির উদ্দিন ছোট বোনের ঘরে গিয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলে বাদী তা টিনের বেড়ার ফাঁক দিয়ে দেখে ফেলেন এবং ছোট বোনকে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে বলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পরদিন ১৪ আগস্ট রাতে এশার নামাজের পর নাসির উদ্দিন টর্চলাইট নিয়ে বাদীর ঘরে ঢুকে তাঁকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বাধা দিলে নাসির তাঁকে টর্চলাইট দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করেন। বাদী জানান, ওই সময় তিনি ছোট বোনকে ডাকলেও সাড়া পাননি। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নাসির তাঁর পরনের কাপড় খুলে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন এবং নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলে তিনি নাসিরের কাপড় ছিঁড়ে ফেলেন।

প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা ধস্তাধস্তিতে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে নাসির উদ্দিন টর্চলাইট দিয়ে ওই নারীকে মারধর করেন। এতে বাদীর বাম হাতের তিনটি আঙুল ফুলে যাওয়াসহ মারাত্মক জখম হয়। এ সময় নাসিরের সহযোগী রুস্তমও ঘরে ঢুকে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ১৫ আগস্ট তিনি পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। মামলার বিষয়ে জানতে প্রধান আসামি নাসিরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর রনজুয়ারা সিপু জানান, বাদীর বর্ণনা অনুযায়ী আসামি একাধিক অপরাধে অপরাধী।