কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়িবহরে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে বিক্ষোভ মিছিল থেকে সংসদ সদস্যের বাসভবনেও ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের ব্যস্ততম ৬ রাস্তার মোড় এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
হামলার ঘটনায় সংসদ সদস্যের ব্যবহৃত গাড়িটির কাঁচ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে গাড়ির সামনের আসনে থাকা আমির হামজার চাচা মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন এবং সংসদ সদস্য নিজেও মাথায় আঘাত পেয়েছেন। এই ঘটনার পর উভয়পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে জামায়াতে ইসলামীর ৭ জন এবং গণঅধিকার পরিষদের ৩ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার একটি বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনার সূত্রপাত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা গণঅধিকার পরিষদ ৬ রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিল। সংসদ সদস্যের গাড়িটি সেই মোড় অতিক্রম করার সময় সমাবেশের ভেতর থেকে হামলা চালানো হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে মুফতি আমির হামজা বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মন্ত্রণালয়ের মিটিংয়ের প্রস্তুতি হিসেবে রাস্তাঘাট ও কালভার্টের তথ্য সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে তিনি জানতে পারেন কিছু লোক তাকে ও তার বাবা-মাকে নিয়ে গালিগালাজ করছে। তিনি তাৎক্ষণিক সদর থানার ওসিকে বিষয়টি জানান। ৬ রাস্তার মোড়ে পৌঁছামাত্রই লাঠি ও হকিস্টিক নিয়ে তার গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, গণঅধিকার পরিষদের নেতা আব্দুল খালেক ও তৌকিরের নেতৃত্বেই এই হামলাটি হয়েছে এবং তিনি আজই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে মামলা দায়ের করবেন।
অন্যদিকে, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ দাবি করেন, সংসদ সদস্য আমির হামজা তাদের দল নিয়ে ‘এই দল দুইজনের, তাছাড়া এদের কোনো লোকজন নেই’ বলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছিলেন। তার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের প্রতিবাদেই তারা ৬ রাস্তার মোড়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিলেন বলে জানান তিনি।
এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সংসদ সদস্যের বাসভবনসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

