ইরানের সঙ্গে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর শর্তে দেশটির ওপর পরিকল্পিত বিমান হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১ আগস্ট) রাতে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন। ট্রাম্প জানান, এই চুক্তির মধ্যে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটানোর মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর ছড়িয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বড় ধরনের ও তীব্র হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্প জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে নজিরবিহীন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন বাহিনী হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল। তবে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানোর পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে শনিবার সকালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য উচ্চ সতর্কতা জারি করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সম্ভাব্য যুদ্ধাবস্থা বা জরুরি পরিস্থিতিতে আকাশসীমা বন্ধ ও ফ্লাইট বাতিলের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে উল্লেখ করে নাগরিকদের প্রয়োজনে দ্রুত দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের বোমাবর্ষণ অভিযানের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেছিল। শুক্রবার ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প বলেছিলেন, তারা ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানতে প্রস্তুত।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আকস্মিক হামলা চালালে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। গত এপ্রিলে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি জুনে ভেঙে পড়ার পর থেকে উভয় পক্ষ আবারও হামলা ও পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলো অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি দেশটির কৌশলগত স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করেছে। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে নিশানা করেছে। তেহরান এর আগে যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করে সতর্ক করেছিল যে, ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করা যেকোনো আঞ্চলিক দেশ ইরানের লক্ষ্যবস্তু হবে।

