মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। এই অঞ্চলে দায়িত্বপ্রাপ্ত দূত হিসেবে দেশগুলোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি অনুধাবন করাই তার সফরের অন্যতম লক্ষ্য ছিল। ঢাকায় আসার আগে তিনি শ্রীলংকা ও নেপাল সফর করেছেন।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) বা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় এই চুক্তি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছিলেন। সার্জিও গোরের এই সফরের একটি উদ্দেশ্য ছিল চুক্তিটির বর্তমান অবস্থা, প্রতিবন্ধকতা এবং তা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা।
সফরকালে সার্জিও গোর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের জন্য অন্যতম প্রধান সাহায্যকারী দেশ, তাই তার সুপারিশ রোহিঙ্গাদের সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সফরের শেষভাগে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বর্তমান সরকারের প্রতি মার্কিন ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান।
সার্জিও গোর বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেছেন। শুধু আমদানি-রপ্তানি বা শুল্ক হারের বাইরে জ্বালানি খাত, ব্লু ইকোনমি, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে মার্কিন বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আগামী সপ্তাহে মার্কিন বেসরকারি খাতের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর করার কথা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি, সুশাসন নিশ্চিত এবং রেগুলেটরি কাঠামো আধুনিকায়নে মনোযোগ দিতে হবে। যদি মার্কিন বিনিয়োগ আসে, তবে দ্বিপাক্ষিক ৮-১০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য নিয়ে আর বাড়তি চিন্তার প্রয়োজন থাকবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বিনিয়োগের একটি কৌশলগত দিকও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনকে বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখে এবং তারা চাইবে না বাংলাদেশে চীনের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ুক। স্বাভাবিকভাবেই সার্জিও গোরের আলোচনায় চীন প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

