উপসাগরীয় নিরাপত্তায় স্বনির্ভরতার আহ্বান জানালো কাতার

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তার জন্য কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক জোটের ওপর নির্ভর করে থাকতে পারে না। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হিলি ফোরামে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাহিনীর উপস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোট থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট নয়।

মুখপাত্রের মতে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হয়ে ওঠাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। তিনি আরও বলেন, মিত্র ও অংশীদারদের প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু নিরাপত্তার সব দায়িত্ব কেবল তাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা অবসানের চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। দেশটি একইসঙ্গে ইরানের হামলার শিকার হয়েছে এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটিটি কাতারে অবস্থিত। ইরান পুরো যুদ্ধের সময়জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে।

ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এক অচলাবস্থায় রয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত করছে এবং অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে পাল্টা অবরোধ জোরদার করছে। গত মাসে দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি তেহরান সফর করেন। এর আগে ইরান ও ওমান জানিয়েছিল, তারা হরমুজ প্রণালিতে অস্থায়ী নৌপথ চালু এবং সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ নিয়ে আলোচনা করছে।