চলতি মাসেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। রোববার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
নির্বাচন কমিশন এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অধিকতর নিরাপদ, নিরপেক্ষ ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতির পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কমিশনার জানান, দেশের সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে এবং নজরদারি বাড়াতে বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া পরিস্থিতি দ্রুত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনে ড্রোনের ব্যবহারও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, শুধু নিরাপত্তা নয়, ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান, বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলা এবং নারী, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ অন্যান্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ব্যয় সংকোচন ও মেয়াদের বিষয়টি মাথায় রেখে নির্বাচনগুলো ধাপে ধাপে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। কমিশনার জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসকে এড়িয়ে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করা হচ্ছে, কারণ শিক্ষকরা ভোটের দায়িত্বে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো কিছু নতুন বিধান এতে যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে পোস্টার, বিলবোর্ড ব্যবহার এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি থাকছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে এই আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করা হবে।
অন্যদিকে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদনের শেষ সময় সোমবার। মাঠপর্যায়ে ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১০ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব আবেদন নিষ্পত্তি করা হবে এবং এরপর ভোটার তালিকা মুদ্রণের জন্য পাঠানো হবে।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় সেখানেও দ্রুত তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে বলে কমিশনার জানান। চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের আদালতের আদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, আদালতের কপি হাতে না আসা পর্যন্ত কমিশন অপেক্ষা করবে। জামায়াতে ইসলামীর ৯ দফা দাবি এবং শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে কমিশন চিন্তা-ভাবনা করছে, তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

